Jun 7, 2026

বাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি

 বাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ও অংশগ্রহণ ফি


 আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য সুখবর দিচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের খরচ সামলাতে এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রাইজমানি ও আনুষঙ্গিক ফি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি।
আজ ফিফা জানায়, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর যাতায়াত, আবাসন ও অন্যান্য পরিচালনা ব্যয় মেটাতে প্রাইজমানি বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। 

বিশেষ করে ইউরোপীয় দলগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে ফিফা এই ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
 আগামী মঙ্গলবার কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাবটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে ফিফা বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড ৭২৭ মিলিয়ন ডলারের প্রাইজমানি ঘোষণা করেছিল।
যেখানে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলের জন্য সর্বনিম্ন ১০.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। 

তবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যাতায়াত এবং কর সংক্রান্ত বাড়তি খরচের কথা মাথায় রেখে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এই অর্থ বাড়ানোর দাবি তোলে।
ফিফা জানিয়েছে, ২০২৩-২৬ চক্রে তাদের আয় ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা এই প্রাইজমানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

ফিফার একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, ‘ফিফা নিশ্চিত করছে যে আমরা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের সাথে লভ্যাংশ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করছি। এর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা দলগুলোর জন্য আর্থিক অনুদান এবং ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের জন্য উন্নয়ন তহবিল বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ অর্থাৎ সদস্য দেশ হিসেবে এর একটি অংশ পাবে বাংলাদেশও। 

উল্লেখ্য, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪৮টি দলের জন্য পারফরম্যান্স-ভিত্তিক পেমেন্ট বাবদ ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার এবং প্রতিটি দেশের প্রস্তুতি খরচের জন্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ ছিল। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এই অংক আরও বাড়বে। 

২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপের সাফল্যের কারণে ফিফার বাজেটকৃত রাজস্বের ৯৩ শতাংশই ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর।

ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে বিশ্বকাপে আনার প্রস্তাব নাকচ করল ফিফা

 ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে বিশ্বকাপে আনার প্রস্তাব নাকচ করল ফিফা


 ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জামপোল্লির এমন প্রস্তাবের পর বিভিন্ন মাধ্যমে জল্পনা শুরু হলেও ফিফা নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এই সুযোগে ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিশেষ দূত পাওলো জামপোল্লি প্রস্তাব দেন যে, ইরানের পরিবর্তে ইতালিকে মূল পর্বে সুযোগ দেওয়া হোক।
 তিনি বলেন, ‘ইতালি চারবারের চ্যাম্পিয়ন, তাই ঐতিহ্যের দিক থেকে তাদের বিশ্বকাপ খেলার অধিকার আছে। যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত টুর্নামেন্টে আজ্জুরিদের (ইতালি) দেখা হবে আমার জন্য স্বপ্নের মতো।


মূলত পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে সৃষ্ট তিক্ততা দূর করতেই এই ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর গত সপ্তাহের একটি বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেছে।
সেখানে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, ‘ইরান দল অবশ্যই আসছে। খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত।’ 

ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও ফিফা নিশ্চিত করেছে যে, সূচি অনুযায়ী খেলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই হবে।

বাছাইপর্বের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে ইতালি। ফিফার নিয়মানুযায়ী কোনো দল বাদ পড়লে অন্য দলকে সুযোগ দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ফিফারই। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানকে বাদ দেওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি দেখছে না সংস্থাটি।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান সরকার জানিয়েছে তারা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এরপর তারা বেলজিয়াম ও মিশরের মুখোমুখি হবে।

যদিও নিরাপত্তার অজুহাতে মার্চ মাসে ইরান একবার টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে ফিফা প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক আশ্বাসে সেই মেঘ কেটে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

May 30, 2026

চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের

 চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের


 চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের (prosthetic leg) বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
পশ্চিম চীনে সিল্ক রোডের কাছে একটি সমাধিতে ২,২০০ বছর পুরনো একটি কৃত্রিম পা পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা *চাইনিজ আর্কিওলজি* জার্নালে এর বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, "এটি পপলার কাঠ দিয়ে তৈরি; এর দুই পাশে সাতটি ছিদ্র রয়েছে, যার মাধ্যমে চামড়ার ফিতা দিয়ে এটিকে বিকলাঙ্গ পায়ের সাথে বেঁধে রাখা হতো। কৃত্রিম পাটির নিচের অংশটি চোঙাকৃতির, যা একটি ঘষা অক্সের (ষাঁড়) শিং দিয়ে মোড়ানো এবং এর মাথায় একটি ঘোড়ার খুর লাগানো রয়েছে, যাতে এটি মাটির সাথে ভালো গ্রিপ পায় এবং সহজে ক্ষয়ে না যায়।"
যিনি এই পা ব্যবহার করতেন, মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫০ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। কৃত্রিম পাটির উপরের অংশে ক্ষয় দেখে বোঝা যায় যে এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়েছিল। *ব্রিজিং ইউরেশিয়া* এবং *কোয়াটারনারি ইন্টারন্যাশনাল*-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, তার বাম হাঁটুর হাড়গুলো आपसে মিশে গিয়েছিল (fused), সম্ভবত রিউম্যাটিজম বা কোনো আঘাতজনিত প্রদাহের কারণে এমনটা হয়েছিল। তার সমাধিতে মাটির তৈরি কাপ, একটি বয়াম এবং কাঠের তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্মও পাওয়া গেছে।
সূত্র: আর্কিওলজি ম্যাগাজিন।

রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে

 রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে

আজকের মতো বিমান, দ্রুতগামী যানবাহন কিংবা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তখন ছিল না। তবু শত শত বছর আগে আফ্রিকার নানা অঞ্চল থেকে অসংখ্য মুসলমান রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে- এক এমন যাত্রায়, যা শুধু দূরত্ব নয়, ধৈর্য, ত্যাগ আর ঈমানেরও পরীক্ষা ছিল।
তাদের অনেককে পাড়ি দিতে হতো প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার পথ।
এই সফর কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ছিল না, অনেকের ক্ষেত্রে এই হজযাত্রা বহু বছরের দীর্ঘ অভিযাত্রা হয়ে উঠত।
তারা মরুভূমি পেরিয়ে এগিয়ে যেতেন। সঙ্গে থাকত গবাদিপশু, যা পথের খাবার ও বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কেউ কেউ পুরো জীবনজুড়ে অর্থ সঞ্চয় করতেন শুধু একবার মক্কায় পৌঁছানোর স্বপ্নে।
পথের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম শাসক ও দানশীল মানুষদের তৈরি কূপ, সরাইখানা ও আশ্রয়কেন্দ্র ছিল হজযাত্রীদের বড় ভরসা। আল্লাহর মেহমানদের সেবা করাকে তারা ইবাদতের অংশ হিসেবেই দেখতেন।
অনেক হজযাত্রী দুই বছর পর নিজ দেশে ফিরতেন। আবার কেউ কেউ কায়রো, দামেস্কের মতো শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন জ্ঞান অর্জনের জন্য। এরপর দেশে ফিরে তারা 'হাজি' উপাধিতে সম্মানিত হতেন।
 


তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন

 তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন

 তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন। আজকে কমিটি গঠন ও প্রথম আলোচনা সভা। চুড়াইন তরুণদের উদ্যোগে চুড়াইনকে আলোকিত করা ও মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য সকলকে আহবান জানাচ্ছি।


 

May 17, 2026

সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব

 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব


 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব' ছিল? নাকি এটা সুচতুর একটা সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার ছিল?
আজ থেকে ৭০০ বছর আগে অশিক্ষিত যাযাবর চেঙ্গিস বাহিনী যেভাবে ভয় এবং ত্রাসের মাধ্যমে মুসলিমদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে পরাজিত করেছিল, আজকের দুনিয়াও আমরা তার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। ছোট ছোট জাতি, বিশাল বিশাল জনগোষ্ঠীকে ত্রাসের মাধ্যমে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে।
ইতিহাস কেবলই গজব আর অলৌকিকতার হিসাব নয়, এর পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গোলদের প্রবল উত্থানের পেছনে যুগে যুগে যাযাবরদের হাতে শহরবাসীর ধরাশায়ী হবার খালদুনীয় তত্ত্বেরই একটি রূপায়ন আমরা দেখি মূলত।
(গত পর্বের পর...)
​ইউরেশিয়ার এক বিশাল চারণভূমি থেকে উঠে আসা সর্বশেষ আক্রমণকারী যাযাবর জাতি ছিল মঙ্গোলরা। হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলটি পর্যায়ক্রমে এমন সব যাযাবর বিজেতাদের জন্ম দিয়েছে, যারা চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের স্থায়ী সভ্যতাগুলোর ওপর বারবার হামলে পড়েছে। জিয়ংনু, হুন এবং গোকতুর্কদের মতো পূর্বসূরিদের মতোই মঙ্গোলরাও একই রকম সম্প্রসারণবাদী কৌশল এবং সামরিক পদ্ধতি ব্যবহার করত।
​কিন্তু মঙ্গোলরা ছিল একেবারেই আলাদা। তাদের অবিশ্বাস্য গতি, বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলের ক্ষমতা এবং নিখাঁদ সামরিক দক্ষতার বলে তারা হয়ে উঠেছিল এই যাযাবর অঞ্চল থেকে উঠে আসা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর পরাশক্তি।
​১২১৮ সাল। মিসরের দামিয়েতা বন্দর অবরোধ করে পঞ্চম ক্রুসেড। যদিও মাত্র কয়েক বছরের মাথায় এই ক্রুসেড চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ঠিক একই বছরে, মুসলিম বিশ্বের পূর্ব সীমান্তে এসে দাঁড়ান চেঙ্গিস খান। খাওয়ারিজমীয় সাম্রাজ্যের শাহ দ্বিতীয় মুহাম্মদের কাছে তিনি এক চরমপত্র পাঠান— হয় বশ্যতা স্বীকার করো, নয়তো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হও।
কোন কারণে ওতরার শহরের খাওয়ারিজমীয় গভর্নর ইনালচুক একটি পুরো মঙ্গোল বাণিজ্য কাফেলাকে হত্যা করেন। এর মধ্যে চেঙ্গিস খানের একজন দূতও ছিলেন। দাবি করা সত্ত্বেও এই ঘটনায় ইনালচুকের বিচার না পেয়ে এই আল্টিমেটাম দেন চেঙ্গিস। শাহ এই চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করেন। 
শেষ পর্যন্ত একে এক মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন চেঙ্গিস খান। কয়েক বছরের মধ্যেই বুখারা, সমরকন্দ, নিশাপুর এবং মার্ভ শহরের ওপর দিয়ে মঙ্গোল টর্নেডো বয়ে যায়। 
প্রাণ বাঁচাতে শাহ কাস্পিয়ান সাগরের দিকে পালিয়ে যান এবং নির্বাসিত অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। আর গভর্নর ইনালচুককে বন্দি করে তার চোখে ও কানে গলিত রুপা ঢেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে মঙ্গোলরা।
\\=\\
​চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর কয়েক বছর পর, ১২২৯ সালে তার ছেলে ওগেদাইয়ের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা ফের পশ্চিমমুখী আগ্রাসণ শুরু করে। ১২৪০-এর দশকের মধ্যেই তারা পারস্য এবং এর আশপাশের বড় একটি অংশ দখল করে নেয়। 
এরপর আনাতোলিয়ার সেলজুকদের পরাজিত করে তাদের একটি করদ রাজ্যে পরিণত করে। পাশাপাশি সিরিয়া এবং আধুনিক ইরাকের কিছু অংশে শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান।
​তবে মুসলিম বিশ্বের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে ১২৫৮ সালে। চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান বাগদাদ ধ্বংস করেন। শহরের জনসংখ্যাকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। 
পরাজিত খলিফা আল-মুসতাসিমকে মঙ্গোলদের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি গালিচায় মুড়িয়ে ঘোড়ার পায়ের নিচে পিষ্ট করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আব্বাসীয়দের ৫০০ বছরের শাসনের অবসান হয়।
মাত্র ৪০ বছরে ​বিপুল এই ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা পুরো মুসলিম বিশ্বে এক তীব্র আতঙ্কের ঢেউ তোলে। অভাবনীয় নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। সে সময়ের ঐতিহাসিক বিবরণগুলোতে লাখো মানুষের মৃত্যু এবং মঙ্গোলদের ভয়াবহ ও নির্মম সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
​আজকের পাঠকদের কাছে এসব বিবরণ হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। তবে সমসাময়িক মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কাছে মনে হয়েছিল, মঙ্গোলরা যেন নরকের সবচেয়ে গভীর অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে এসেছে। কোনো গল্পকেই তখন আর অবিশ্বাস্য মনে হতো না। বিস্তীর্ণ জনপদ ধ্বংস করে এগিয়ে চলার পথে মঙ্গোলদের দেখা হতো সক্ষাত খোদার গযব হিসেবে।
​যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এই ধারণাটি আজও চেঙ্গিস খানের সেই বহুল প্রচলিত উক্তিটির মাধ্যমে টিকে আছে:
"আমি খোদার গজব... তোমরা যদি বড় বড় পাপ না করতে, তবে তিনি আমার মতো কোনো শাস্তিকে তোমাদের ওপর পাঠাতেন না।”
\\=\\
ধ্বংসের এক অনিবার্য আতঙ্ক চারপাশ থেকে চেপে বসেছিল। মানুষের মনে ইমাম মাহদি ও ঈসা মসীহের আগমনের ধারণাগুলো ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ধূমকেতুর দেখা মেলা, ভূমিকম্প কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে মানুষ দ্রুতই কেয়ামতের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিতে শুরু করে।
​এরই মধ্যে, বিলাদে শামে পুরোদমে আগ্রাসন শুরু করে মঙ্গোলরা। তাদের লক্ষ্য ছিল মিসরে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে ইসলামের একেবারে কেন্দ্রভূমি আরব উপদ্বীপে আঘাত হানা। 
কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল, গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া এবং কেয়ামতের সেই ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করা থেকে মঙ্গোলদের বুঝি আর কেউই রুখতে পারবে না। অথচ, যখন ইসলামি সভ্যতা খাদের একেবারে কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই হোঁচট খায় মঙ্গোল আগ্রাসন।
​বাগদাদ পতনের পর দামেশকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হালাকু খান। এরপর শুরু হয় মিসর দখলের প্রস্তুতি। উত্তর আফ্রিকার বাইরে তখন একমাত্র স্বাধীন মুসলিম ভূখণ্ড হিসেবে টিকে ছিল মিসরের মামলুক সালতানাত। হালাকু খান মামলুক রাজধানী কায়রোতে দূত পাঠিয়ে তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানান।
​জবাবে মামলুক সুলতান সাইফউদ্দীন কুতুজ সেই দূতদের শিরশ্ছেদ করেন। তাদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখা হয় কায়রোর প্রবেশদ্বারে। হালাকু খানের সাথে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে কুতুজ তার মামলুক বাহিনীকে সংঘবদ্ধ করেন। ঠিক এই মুহূর্তটিতেই ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায়।
​১২৫৯ সালে তৎকালীন মঙ্গোল শাসক মংকে খানের মৃত্যুতে হালাকু খান তার বিশাল বাহিনীর বড় একটি অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হন। মঙ্গোলিয়ায় ফিরে গিয়ে নতুন শাসক নির্বাচনের জন্য মঙ্গোলদের সর্বোচ্চ পরিষদ বা 'কুরুলতাই'-এ যোগ দেওয়া তার জন্য তখন জরুরি ছিল। যাওয়ার আগে তিনি তার অন্যতম সেনাপতি কিতবুকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে যান।
​ঠিক এক বছর পর, ১২৬০ সালে, 'আইন জালুত'-এর প্রান্তরে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এখানেই মঙ্গোলরা তাদের ইতিহাসের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। মামলুক বাহিনীর হাতে কিতবুকা নিহত হন এবং তার বাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
​মঙ্গোলদের এই পরাজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল হালাকু খানের পশ্চিম এশিয়া ত্যাগ। তাছাড়া মামলুকরা নিজেরাও ছিল যাযাবর বংশোদ্ভূত। ফলে স্তেপ অঞ্চলের অশ্বারোহী যুদ্ধকৌশল তাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত ছিল না। মঙ্গোলদের সামরিক কৌশল তাই তাদের ভড়কে দিতে পারেনি।
\\=\\
​হালাকু খান আইন জালুতের এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে তাকে সম্পূর্ণ নতুন এক হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। 
তার আপন চাচাতো ভাই এবং 'গোল্ডেন হোর্ড' সাম্রাজ্যের শাসক বারকে খান ততদিনে ইসলাম কবুল করেছেন। বাগদাদ ধ্বংস এবং খলিফাকে হত্যার ঘটনায় বারকে খান প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি মামলুকদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলেন এবং হালাকু খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই গোল্ডেন হোর্ডের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালেই ১২৬৫ সালে হালাকু খানের মৃত্যু হয়।
​১২৬০ সালের পর মামলুক শাসিত মিসরে মঙ্গোলরা বিক্ষিপ্তভাবে আরও বেশ কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা করে, কিন্তু কখনোই আর সফল হতে পারেনি। ততদিনে হাওয়া বদলে গেছে। আইন জালুতের প্রান্তরে মামলুকদের বিজয় এবং বারকে খানের ইসলাম গ্রহণ এমন এক বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত খোদ মঙ্গোল সাম্রাজ্যকেই পাল্টে দেয়।
....
ক্রিটিকালি চিন্তা করে দেখেন, কেন, আর কীভাবে  মামলুকরাই মোঙ্গলদের ঠেকাতে পারলো, অন্যরা নয়? ৪২ বছরের মোঙ্গল ত্রাসের ইতিহাসে একদম শুরু, আর শেষের মধ্যে একটা কাকতালীয় মিল আছে। সেখানেই পাওয়া যাবে উত্তর।
(চলবে...)
তথ্যসূত্র:
​আতা-মালিক জুভায়নি (Genghis Khan: The History of the World Conqueror - মঙ্গোল ধ্বংসযজ্ঞ ও 'খোদার গজব' উক্তির ঐতিহাসিক বিবরণ)
​ডেভিড মরগান (The Mongols)
​পিটার জ্যাকসন (The Mongols and the Islamic World)
​রিউভেন আমিতাই-প্রিস (Mongols and Mamluks: The Mamluk-Ilkhanid War)
​ম্যারি ফক রেস্তাইন (The Mongols and the Mamluks)

ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ

 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ


 🐐 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ: ২০২৬ সালের আধুনিক শেড বা ঘর নির্মাণের কৌশল 🐐
বর্তমান সময়ে কৃষিখাতে বিনিয়োগের অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র হলো ছাগল পালন। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ হতে পারে। তবে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ছাগল পালন না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঘর তৈরি করলে মৃত্যুহার যেমন কমে, তেমনি বৃদ্ধি পায় মুনাফার হার।
🏗️ আধুনিক মাচা পদ্ধতি বা প্ল্যাটফর্ম শেড:
২০২৬ সালের সফল খামারিরা এখন মাচা পদ্ধতিতে ঘর তৈরি করছেন। এই পদ্ধতিতে ছাগল মাটির সংস্পর্শে থাকে না, ফলে রোগবালাই অনেক কম হয়।
১. মাচার উচ্চতা ও মেঝে:
মাটি থেকে মাচার উচ্চতা অন্তত ৩ থেকে ৪ ফুট হওয়া উচিত। মেঝে হিসেবে টেকসই কাঠ বা প্লাস্টিকের আধুনিক মাচা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। মাচার ফাঁক এমনভাবে রাখতে হবে যাতে মল-মূত্র সহজেই নিচে পড়ে যায়।
২. দেয়াল ও ভেন্টিলেশন:
ঘরের দেয়াল সম্পূর্ণ বদ্ধ না করে অন্তত উপরের অর্ধেক অংশ নেট বা জালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত হয়, যা ছাগলের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য চর্মরোগ রোধ করে।
৩. সঠিক জায়গা বরাদ্দ:
প্রতিটি বড় ছাগলের জন্য কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। গাদাগাদি করে ছাগল রাখলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও জৈব নিরাপত্তা:
শীতকালে ঘর গরম রাখতে চটের বস্তা বা মোটা পর্দা এবং গ্রীষ্মকালে বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। খামারের প্রবেশপথে অবশ্যই জীবাণুনাশক ফুটবাথ রাখতে হবে যাতে বাইরের কোনো ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে।
💡 কেন এই বয়সে ছাগল পালনে বিনিয়োগ করবেন?
৩০-৪০ বছর বয়স হলো কাজ করার ও সঠিক বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময়। এই আধুনিক ঘর পদ্ধতিতে আপনি যদি ২০-৩০টি উন্নত জাতের (যেমন- ব্লাক বেঙ্গল বা যমুনা পাড়ি) ছাগল দিয়ে শুরু করেন, তবে ১-২ বছরের মধ্যেই এটি একটি বড় আয়ের উৎসে পরিণত হবে। নিজের হাতে গড়া এই খামার আপনাকে কেবল আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীই করবে না, বরং আপনি হয়ে উঠবেন স্থানীয় কৃষি বিপ্লবের কারিগর।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📢 প্রিয় দর্শক, আপনি কি আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে ছাগলের ঘর করার কথা ভাবছেন? নাকি আপনার বর্তমান শেড নিয়ে কোনো সমস্যায় আছেন?
✅ লাইক দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করুন।
✅ কমেন্টে জানান আপনার এলাকার আধুনিক খামারগুলোর বর্তমান অবস্থা।
✅ শেয়ার করে আপনার বেকার বন্ধুদের স্বপ্ন জয়ের নতুন পথ দেখান।