May 30, 2026

চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের

 চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের


 চীনের তুরপানে আবিষ্কৃত ২,২০০ বছরের পুরনো একটি কৃত্রিম পায়ের (prosthetic leg) বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
পশ্চিম চীনে সিল্ক রোডের কাছে একটি সমাধিতে ২,২০০ বছর পুরনো একটি কৃত্রিম পা পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা *চাইনিজ আর্কিওলজি* জার্নালে এর বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছেন, "এটি পপলার কাঠ দিয়ে তৈরি; এর দুই পাশে সাতটি ছিদ্র রয়েছে, যার মাধ্যমে চামড়ার ফিতা দিয়ে এটিকে বিকলাঙ্গ পায়ের সাথে বেঁধে রাখা হতো। কৃত্রিম পাটির নিচের অংশটি চোঙাকৃতির, যা একটি ঘষা অক্সের (ষাঁড়) শিং দিয়ে মোড়ানো এবং এর মাথায় একটি ঘোড়ার খুর লাগানো রয়েছে, যাতে এটি মাটির সাথে ভালো গ্রিপ পায় এবং সহজে ক্ষয়ে না যায়।"
যিনি এই পা ব্যবহার করতেন, মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫০ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। কৃত্রিম পাটির উপরের অংশে ক্ষয় দেখে বোঝা যায় যে এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করা হয়েছিল। *ব্রিজিং ইউরেশিয়া* এবং *কোয়াটারনারি ইন্টারন্যাশনাল*-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, তার বাম হাঁটুর হাড়গুলো आपसে মিশে গিয়েছিল (fused), সম্ভবত রিউম্যাটিজম বা কোনো আঘাতজনিত প্রদাহের কারণে এমনটা হয়েছিল। তার সমাধিতে মাটির তৈরি কাপ, একটি বয়াম এবং কাঠের তৈরি বিভিন্ন শিল্পকর্মও পাওয়া গেছে।
সূত্র: আর্কিওলজি ম্যাগাজিন।

রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে

 রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে

আজকের মতো বিমান, দ্রুতগামী যানবাহন কিংবা সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা তখন ছিল না। তবু শত শত বছর আগে আফ্রিকার নানা অঞ্চল থেকে অসংখ্য মুসলমান রওনা হতেন হজের উদ্দেশ্যে- এক এমন যাত্রায়, যা শুধু দূরত্ব নয়, ধৈর্য, ত্যাগ আর ঈমানেরও পরীক্ষা ছিল।
তাদের অনেককে পাড়ি দিতে হতো প্রায় ৭ হাজার কিলোমিটার পথ।
এই সফর কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ছিল না, অনেকের ক্ষেত্রে এই হজযাত্রা বহু বছরের দীর্ঘ অভিযাত্রা হয়ে উঠত।
তারা মরুভূমি পেরিয়ে এগিয়ে যেতেন। সঙ্গে থাকত গবাদিপশু, যা পথের খাবার ও বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কেউ কেউ পুরো জীবনজুড়ে অর্থ সঞ্চয় করতেন শুধু একবার মক্কায় পৌঁছানোর স্বপ্নে।
পথের বিভিন্ন স্থানে মুসলিম শাসক ও দানশীল মানুষদের তৈরি কূপ, সরাইখানা ও আশ্রয়কেন্দ্র ছিল হজযাত্রীদের বড় ভরসা। আল্লাহর মেহমানদের সেবা করাকে তারা ইবাদতের অংশ হিসেবেই দেখতেন।
অনেক হজযাত্রী দুই বছর পর নিজ দেশে ফিরতেন। আবার কেউ কেউ কায়রো, দামেস্কের মতো শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন জ্ঞান অর্জনের জন্য। এরপর দেশে ফিরে তারা 'হাজি' উপাধিতে সম্মানিত হতেন।
 


তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন

 তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন

 তারুণ্যের_শক্তি_একসাথে_আলোর_পথে_চুড়াইন। আজকে কমিটি গঠন ও প্রথম আলোচনা সভা। চুড়াইন তরুণদের উদ্যোগে চুড়াইনকে আলোকিত করা ও মাদক সন্ত্রাস চাঁদাবাজ মুক্ত সমাজ গড়ার জন্য সকলকে আহবান জানাচ্ছি।


 

May 17, 2026

সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব

 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব


 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব' ছিল? নাকি এটা সুচতুর একটা সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার ছিল?
আজ থেকে ৭০০ বছর আগে অশিক্ষিত যাযাবর চেঙ্গিস বাহিনী যেভাবে ভয় এবং ত্রাসের মাধ্যমে মুসলিমদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে পরাজিত করেছিল, আজকের দুনিয়াও আমরা তার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। ছোট ছোট জাতি, বিশাল বিশাল জনগোষ্ঠীকে ত্রাসের মাধ্যমে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে।
ইতিহাস কেবলই গজব আর অলৌকিকতার হিসাব নয়, এর পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গোলদের প্রবল উত্থানের পেছনে যুগে যুগে যাযাবরদের হাতে শহরবাসীর ধরাশায়ী হবার খালদুনীয় তত্ত্বেরই একটি রূপায়ন আমরা দেখি মূলত।
(গত পর্বের পর...)
​ইউরেশিয়ার এক বিশাল চারণভূমি থেকে উঠে আসা সর্বশেষ আক্রমণকারী যাযাবর জাতি ছিল মঙ্গোলরা। হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলটি পর্যায়ক্রমে এমন সব যাযাবর বিজেতাদের জন্ম দিয়েছে, যারা চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের স্থায়ী সভ্যতাগুলোর ওপর বারবার হামলে পড়েছে। জিয়ংনু, হুন এবং গোকতুর্কদের মতো পূর্বসূরিদের মতোই মঙ্গোলরাও একই রকম সম্প্রসারণবাদী কৌশল এবং সামরিক পদ্ধতি ব্যবহার করত।
​কিন্তু মঙ্গোলরা ছিল একেবারেই আলাদা। তাদের অবিশ্বাস্য গতি, বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলের ক্ষমতা এবং নিখাঁদ সামরিক দক্ষতার বলে তারা হয়ে উঠেছিল এই যাযাবর অঞ্চল থেকে উঠে আসা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর পরাশক্তি।
​১২১৮ সাল। মিসরের দামিয়েতা বন্দর অবরোধ করে পঞ্চম ক্রুসেড। যদিও মাত্র কয়েক বছরের মাথায় এই ক্রুসেড চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ঠিক একই বছরে, মুসলিম বিশ্বের পূর্ব সীমান্তে এসে দাঁড়ান চেঙ্গিস খান। খাওয়ারিজমীয় সাম্রাজ্যের শাহ দ্বিতীয় মুহাম্মদের কাছে তিনি এক চরমপত্র পাঠান— হয় বশ্যতা স্বীকার করো, নয়তো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হও।
কোন কারণে ওতরার শহরের খাওয়ারিজমীয় গভর্নর ইনালচুক একটি পুরো মঙ্গোল বাণিজ্য কাফেলাকে হত্যা করেন। এর মধ্যে চেঙ্গিস খানের একজন দূতও ছিলেন। দাবি করা সত্ত্বেও এই ঘটনায় ইনালচুকের বিচার না পেয়ে এই আল্টিমেটাম দেন চেঙ্গিস। শাহ এই চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করেন। 
শেষ পর্যন্ত একে এক মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন চেঙ্গিস খান। কয়েক বছরের মধ্যেই বুখারা, সমরকন্দ, নিশাপুর এবং মার্ভ শহরের ওপর দিয়ে মঙ্গোল টর্নেডো বয়ে যায়। 
প্রাণ বাঁচাতে শাহ কাস্পিয়ান সাগরের দিকে পালিয়ে যান এবং নির্বাসিত অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। আর গভর্নর ইনালচুককে বন্দি করে তার চোখে ও কানে গলিত রুপা ঢেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে মঙ্গোলরা।
\\=\\
​চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর কয়েক বছর পর, ১২২৯ সালে তার ছেলে ওগেদাইয়ের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা ফের পশ্চিমমুখী আগ্রাসণ শুরু করে। ১২৪০-এর দশকের মধ্যেই তারা পারস্য এবং এর আশপাশের বড় একটি অংশ দখল করে নেয়। 
এরপর আনাতোলিয়ার সেলজুকদের পরাজিত করে তাদের একটি করদ রাজ্যে পরিণত করে। পাশাপাশি সিরিয়া এবং আধুনিক ইরাকের কিছু অংশে শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান।
​তবে মুসলিম বিশ্বের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে ১২৫৮ সালে। চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান বাগদাদ ধ্বংস করেন। শহরের জনসংখ্যাকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। 
পরাজিত খলিফা আল-মুসতাসিমকে মঙ্গোলদের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি গালিচায় মুড়িয়ে ঘোড়ার পায়ের নিচে পিষ্ট করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আব্বাসীয়দের ৫০০ বছরের শাসনের অবসান হয়।
মাত্র ৪০ বছরে ​বিপুল এই ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা পুরো মুসলিম বিশ্বে এক তীব্র আতঙ্কের ঢেউ তোলে। অভাবনীয় নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। সে সময়ের ঐতিহাসিক বিবরণগুলোতে লাখো মানুষের মৃত্যু এবং মঙ্গোলদের ভয়াবহ ও নির্মম সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
​আজকের পাঠকদের কাছে এসব বিবরণ হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। তবে সমসাময়িক মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কাছে মনে হয়েছিল, মঙ্গোলরা যেন নরকের সবচেয়ে গভীর অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে এসেছে। কোনো গল্পকেই তখন আর অবিশ্বাস্য মনে হতো না। বিস্তীর্ণ জনপদ ধ্বংস করে এগিয়ে চলার পথে মঙ্গোলদের দেখা হতো সক্ষাত খোদার গযব হিসেবে।
​যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এই ধারণাটি আজও চেঙ্গিস খানের সেই বহুল প্রচলিত উক্তিটির মাধ্যমে টিকে আছে:
"আমি খোদার গজব... তোমরা যদি বড় বড় পাপ না করতে, তবে তিনি আমার মতো কোনো শাস্তিকে তোমাদের ওপর পাঠাতেন না।”
\\=\\
ধ্বংসের এক অনিবার্য আতঙ্ক চারপাশ থেকে চেপে বসেছিল। মানুষের মনে ইমাম মাহদি ও ঈসা মসীহের আগমনের ধারণাগুলো ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ধূমকেতুর দেখা মেলা, ভূমিকম্প কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে মানুষ দ্রুতই কেয়ামতের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিতে শুরু করে।
​এরই মধ্যে, বিলাদে শামে পুরোদমে আগ্রাসন শুরু করে মঙ্গোলরা। তাদের লক্ষ্য ছিল মিসরে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে ইসলামের একেবারে কেন্দ্রভূমি আরব উপদ্বীপে আঘাত হানা। 
কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল, গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া এবং কেয়ামতের সেই ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করা থেকে মঙ্গোলদের বুঝি আর কেউই রুখতে পারবে না। অথচ, যখন ইসলামি সভ্যতা খাদের একেবারে কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই হোঁচট খায় মঙ্গোল আগ্রাসন।
​বাগদাদ পতনের পর দামেশকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হালাকু খান। এরপর শুরু হয় মিসর দখলের প্রস্তুতি। উত্তর আফ্রিকার বাইরে তখন একমাত্র স্বাধীন মুসলিম ভূখণ্ড হিসেবে টিকে ছিল মিসরের মামলুক সালতানাত। হালাকু খান মামলুক রাজধানী কায়রোতে দূত পাঠিয়ে তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানান।
​জবাবে মামলুক সুলতান সাইফউদ্দীন কুতুজ সেই দূতদের শিরশ্ছেদ করেন। তাদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখা হয় কায়রোর প্রবেশদ্বারে। হালাকু খানের সাথে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে কুতুজ তার মামলুক বাহিনীকে সংঘবদ্ধ করেন। ঠিক এই মুহূর্তটিতেই ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায়।
​১২৫৯ সালে তৎকালীন মঙ্গোল শাসক মংকে খানের মৃত্যুতে হালাকু খান তার বিশাল বাহিনীর বড় একটি অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হন। মঙ্গোলিয়ায় ফিরে গিয়ে নতুন শাসক নির্বাচনের জন্য মঙ্গোলদের সর্বোচ্চ পরিষদ বা 'কুরুলতাই'-এ যোগ দেওয়া তার জন্য তখন জরুরি ছিল। যাওয়ার আগে তিনি তার অন্যতম সেনাপতি কিতবুকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে যান।
​ঠিক এক বছর পর, ১২৬০ সালে, 'আইন জালুত'-এর প্রান্তরে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এখানেই মঙ্গোলরা তাদের ইতিহাসের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। মামলুক বাহিনীর হাতে কিতবুকা নিহত হন এবং তার বাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
​মঙ্গোলদের এই পরাজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল হালাকু খানের পশ্চিম এশিয়া ত্যাগ। তাছাড়া মামলুকরা নিজেরাও ছিল যাযাবর বংশোদ্ভূত। ফলে স্তেপ অঞ্চলের অশ্বারোহী যুদ্ধকৌশল তাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত ছিল না। মঙ্গোলদের সামরিক কৌশল তাই তাদের ভড়কে দিতে পারেনি।
\\=\\
​হালাকু খান আইন জালুতের এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে তাকে সম্পূর্ণ নতুন এক হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। 
তার আপন চাচাতো ভাই এবং 'গোল্ডেন হোর্ড' সাম্রাজ্যের শাসক বারকে খান ততদিনে ইসলাম কবুল করেছেন। বাগদাদ ধ্বংস এবং খলিফাকে হত্যার ঘটনায় বারকে খান প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি মামলুকদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলেন এবং হালাকু খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই গোল্ডেন হোর্ডের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালেই ১২৬৫ সালে হালাকু খানের মৃত্যু হয়।
​১২৬০ সালের পর মামলুক শাসিত মিসরে মঙ্গোলরা বিক্ষিপ্তভাবে আরও বেশ কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা করে, কিন্তু কখনোই আর সফল হতে পারেনি। ততদিনে হাওয়া বদলে গেছে। আইন জালুতের প্রান্তরে মামলুকদের বিজয় এবং বারকে খানের ইসলাম গ্রহণ এমন এক বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত খোদ মঙ্গোল সাম্রাজ্যকেই পাল্টে দেয়।
....
ক্রিটিকালি চিন্তা করে দেখেন, কেন, আর কীভাবে  মামলুকরাই মোঙ্গলদের ঠেকাতে পারলো, অন্যরা নয়? ৪২ বছরের মোঙ্গল ত্রাসের ইতিহাসে একদম শুরু, আর শেষের মধ্যে একটা কাকতালীয় মিল আছে। সেখানেই পাওয়া যাবে উত্তর।
(চলবে...)
তথ্যসূত্র:
​আতা-মালিক জুভায়নি (Genghis Khan: The History of the World Conqueror - মঙ্গোল ধ্বংসযজ্ঞ ও 'খোদার গজব' উক্তির ঐতিহাসিক বিবরণ)
​ডেভিড মরগান (The Mongols)
​পিটার জ্যাকসন (The Mongols and the Islamic World)
​রিউভেন আমিতাই-প্রিস (Mongols and Mamluks: The Mamluk-Ilkhanid War)
​ম্যারি ফক রেস্তাইন (The Mongols and the Mamluks)

ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ

 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ


 🐐 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ: ২০২৬ সালের আধুনিক শেড বা ঘর নির্মাণের কৌশল 🐐
বর্তমান সময়ে কৃষিখাতে বিনিয়োগের অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র হলো ছাগল পালন। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ হতে পারে। তবে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ছাগল পালন না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঘর তৈরি করলে মৃত্যুহার যেমন কমে, তেমনি বৃদ্ধি পায় মুনাফার হার।
🏗️ আধুনিক মাচা পদ্ধতি বা প্ল্যাটফর্ম শেড:
২০২৬ সালের সফল খামারিরা এখন মাচা পদ্ধতিতে ঘর তৈরি করছেন। এই পদ্ধতিতে ছাগল মাটির সংস্পর্শে থাকে না, ফলে রোগবালাই অনেক কম হয়।
১. মাচার উচ্চতা ও মেঝে:
মাটি থেকে মাচার উচ্চতা অন্তত ৩ থেকে ৪ ফুট হওয়া উচিত। মেঝে হিসেবে টেকসই কাঠ বা প্লাস্টিকের আধুনিক মাচা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। মাচার ফাঁক এমনভাবে রাখতে হবে যাতে মল-মূত্র সহজেই নিচে পড়ে যায়।
২. দেয়াল ও ভেন্টিলেশন:
ঘরের দেয়াল সম্পূর্ণ বদ্ধ না করে অন্তত উপরের অর্ধেক অংশ নেট বা জালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত হয়, যা ছাগলের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য চর্মরোগ রোধ করে।
৩. সঠিক জায়গা বরাদ্দ:
প্রতিটি বড় ছাগলের জন্য কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। গাদাগাদি করে ছাগল রাখলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও জৈব নিরাপত্তা:
শীতকালে ঘর গরম রাখতে চটের বস্তা বা মোটা পর্দা এবং গ্রীষ্মকালে বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। খামারের প্রবেশপথে অবশ্যই জীবাণুনাশক ফুটবাথ রাখতে হবে যাতে বাইরের কোনো ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে।
💡 কেন এই বয়সে ছাগল পালনে বিনিয়োগ করবেন?
৩০-৪০ বছর বয়স হলো কাজ করার ও সঠিক বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময়। এই আধুনিক ঘর পদ্ধতিতে আপনি যদি ২০-৩০টি উন্নত জাতের (যেমন- ব্লাক বেঙ্গল বা যমুনা পাড়ি) ছাগল দিয়ে শুরু করেন, তবে ১-২ বছরের মধ্যেই এটি একটি বড় আয়ের উৎসে পরিণত হবে। নিজের হাতে গড়া এই খামার আপনাকে কেবল আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীই করবে না, বরং আপনি হয়ে উঠবেন স্থানীয় কৃষি বিপ্লবের কারিগর।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📢 প্রিয় দর্শক, আপনি কি আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে ছাগলের ঘর করার কথা ভাবছেন? নাকি আপনার বর্তমান শেড নিয়ে কোনো সমস্যায় আছেন?
✅ লাইক দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করুন।
✅ কমেন্টে জানান আপনার এলাকার আধুনিক খামারগুলোর বর্তমান অবস্থা।
✅ শেয়ার করে আপনার বেকার বন্ধুদের স্বপ্ন জয়ের নতুন পথ দেখান।

বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের

 বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের 


 বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের কবলে পড়েছিল, বিশেষ করে সাঁওতাল ও সিপাহীদের বিদ্রোহ। তবে এই দুটি বিদ্রোহই ইংরেজ সরকার বাহাদুর অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করেছিল, সেই বিদ্রোহ দমনে নবাবও নিজের সর্বস্ব দিয়ে ইংরেজদের সাহায্য করেছিলেন।এমনকি বিদ্রোহ দমনের পর ইংরেজ সৈন্যরা যখন নিজের কর্মস্থলে ফিরছিল তখনও ইংরেজ সরকারের অনুরোধে নবাব নিজের হাতী ঘোড়া দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
নবাব দরবারের এজেন্ট কলিন ম্যাকেঞ্জির পত্নী হেলেন ডগলাস ম্যাকেঞ্জির স্মৃতিচারণায় সেই সময়ের একটি ঘটনা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন,
“আমাদের সৈন্যদের মধ্যে শৃঙ্খলার শিথিলতার প্রমাণও প্রায়ই দেখা যেত। ৯৯তম রেজিমেন্ট যখন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন এজেন্ট তাদের যাত্রায় সহায়তার জন্য নবাবের কয়েকটি হাতি ধার দিয়েছিলেন।
তবে দুমাস পরে পনেরো বছর বয়স্ক এক হাতির মাহুত তাঁর কাছে আসে কাঁধে গুরুতর বেয়নেটের আঘাত নিয়ে। কারণ, ইংরেজি ভাষায় দেওয়া কোনও আদেশ সে বুঝতে পারেনি, আর সেই জন্য কোনও এক সৈনিক তাকে আঘাত করেছিল!
যা ছিল নৃশংসতার এক লজ্জাজনক উদাহরণ।
রেজিমেন্টের সার্জন ক্ষতটি সেলাই করেছিলেন, কিন্তু যথাযথ পরিচর্যার অভাবে তা ওই মুহূর্তে ভীষণ খারাপ অবস্থায় ছিল। যদিও পরে সঠিক চিকিৎসা পেয়ে ছেলেটি অবশ্য দ্রুত সেরে ওঠে”।

মহানগর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রাজপথের পরীক্ষিতরা

 মহানগর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রাজপথের পরীক্ষিতরা


জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তাদের প্রত্যাশা—পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে নতুন নেতৃত্ব।

বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

 দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সাবেক ছাত্রনেতা, রাজপথের লড়াকু সংগঠক এবং যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম উঠে আসছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, তিনি শুধু মহানগর দক্ষিণ নয়, কেন্দ্রীয় যুবদলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও যেতে পারেন।

রবিউল ইসলাম নয়ন বাংলানিউজকে বলেন, আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। দলের প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার অভিভাবক। তিনি আমাকে দলের একজন সাধারণ সদস্য বানালেও আমি দলের হয়ে কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর যারা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের ব্যানারে থেকে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তারেক রহমানের নির্দেশ পালন করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করে কমিটি গঠন করলে ভালো হয়।

সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না এবং বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলও সভাপতি পদে আলোচিত নাম। দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের একটি বড় অংশ।

ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করেছি। ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭টি বছর এবং জুলাই আন্দোলনসহ দীর্ঘদিন দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায়
সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ, মো. জিন্নাহ, আসাদুজ্জামান আসলাম, আসিফুর রহমান বিপ্লব এবং পল্টন থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিল মৃধা।

সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাদের অনেককেই সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ বাংলানিউজকে বলেন, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, পাশাপাশি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন—এমন নেতৃত্বই আসা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করা এবং তাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে দলগতভাবে কাজ করানো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা যুবদলে অনুপ্রবেশ করছে। এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পল্টন থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিল মৃধা বলেন, আগামী যুবদলের কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতৃত্বই মূল্যায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন, যে কর্মী শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকবে, সে অবশ্যই মূল্যায়িত হবে।

খলিল মৃধা আরও বলেন, আমরা শুধু মিছিলের প্রথম সারিতে থেকেই নয়, ঢাকা শহরের দৃশ্যমান আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছি। তাই আগামী মহানগর ও কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে আমরা মূল্যায়নের প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আমরা চাই, প্রতিটি ত্যাগী পরিবার ও নেতাকর্মীর যথাযথ মূল্যায়ন হোক। সরকারের প্রধান ও আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ। দলের জন্য আমরা জীবন বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত।

যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না বলেন, যারা দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে থেকেছেন, তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দিলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে যাদের নাম আলোচনায়
সভাপতি পদে বর্তমান সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের রামপুরা থানার আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল, যিনি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তার নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, আইয়ুব আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে।

কামাল আহমেদ দুলু বাংলানিউজকে বলেন, দুইটি মামলায় সাজা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে ৭৭টি মামলা খেয়েছি। তবুও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লালচক্ষুর রাঙানি ভয় পাইনি। দলের জন্য কাজ করে গেছি। দলের নেতা তারেক রহমানের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেছি। দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখান থেকেই কাজ করে যাব।

৩৩ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে খন্দকার এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক এবং রবিউল ইসলাম নয়নকে সদস্যসচিব করা হয়।

পাশাপাশি এম এ গাফফার, ইকবাল হোসেন ও মুকিত হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল।

তবে প্রায় ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। কেন্দ্রীয় যুবদল এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়েই আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, উত্তর ও দক্ষিণ দুই ইউনিটেই অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো গেলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমানের মতে, যুবদলের এই পুনর্গঠন রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা গেলে সংগঠন আরও চাঙ্গা হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এবার কোনো ধরনের ‘পকেট কমিটি’ নয়; বরং আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব, সাহসী ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

তাদের মতে, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলের নেতৃত্বে এমন নেতাদের প্রয়োজন, যারা শুধু পদধারী নন, বরং কঠিন সময়ে সংগঠনের পতাকা ধরে রেখেছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে। খসড়া তালিকাও ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত পেলেই যেকোনো সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে।


May 16, 2026

shurma net sms

 shurma net plz log https://shurmanet.ispconnect.xyz/ user name: k@fosal    password: 2021
pay 
hotline 01940943150 01940943154 01940943155.

সোমপুর বৌদ্ধবিহার। বদলগাছি, নঁওগা৷

 সোমপুর বৌদ্ধবিহার। বদলগাছি, নঁওগা৷ 


 

 বাংলাদেশে ইউনেস্কো ঘোষিত তিনটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট রয়েছে- এর একটি হলো সোমপুর মহাবিহার, যা নঁওগায় অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে স্বীকৃতি পাওয়া এই প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারটি বাংলার সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন।
প্রাচীন বাংলার বিস্তীর্ণ জনপদে, আজকের সোমপুর মহাবিহার-পাহাড়পুর। কখনো ছিল জ্ঞান, ধর্ম আর সংস্কৃতির এক দীপ্ত আলোকস্তম্ভ। এখন তার ভগ্নপ্রায় ইটের শরীর নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেও, ইতিহাসের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে আছে এক মহিমান্বিত উত্থান আর দীর্ঘ, বেদনাময় পতনের কাহিনি।
৭ম শতাব্দীর মাঝামাঝি একদিন, দূর চীন থেকে আগত পরিব্রাজক হিউয়েন সাং পা রাখেন পুন্ড্রবর্ধনের মাটিতে। তিনি তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে এই অঞ্চলের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের অনেক কিছুই লিখে গেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়-সেখানে সোমপুরের কোনো বিহার বা মন্দিরের উল্লেখ নেই। যেন তখনও ইতিহাসের মঞ্চে তার আবির্ভাব ঘটেনি। হয়তো সে সময়ের অন্ধকারে নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল, একটি উপযুক্ত যুগের জন্য।
এরপর ধীরে ধীরে সময় বদলায়। বাংলার আকাশে উদিত হয় পাল সাম্রাজ্য-এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সেই সময় সিংহাসনে বসেন ধর্মপাল, গোপালের পুত্র। ৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শুরু হওয়া তাঁর শাসন বিস্তৃত হয় বাংলা ও বিহার পেরিয়ে সুদূর গান্ধার পর্যন্ত। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ইতিহাসে সুপরিচিত। অনেকে মনে করেন, তাঁরই উদ্যোগে গড়ে ওঠে সোমপুর মহাবিহার এবং বিক্রমশীলা।
তবে ইতিহাস সবসময় একমুখী নয়। তিব্বতের প্রাচীন গ্রন্থ পাগ সাম জোন ঝাং-এর লেখক আবার ভিন্ন কথা বলেন। তাঁর মতে, ধর্মপালের পুত্র দেবপাল-ই এই বিশাল বিহার ও সুউচ্চ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। নির্মাতা যিনিই হোন, এতে কোনো সন্দেহ নেই-সোমপুর খুব দ্রুতই হয়ে ওঠে বৌদ্ধ শিক্ষার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র।
সেই সময়ের চিত্র কল্পনা করলে দেখা যায়-বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে ভিক্ষুরা চলাফেরা করছেন, পাঠ চলছে, বিতর্ক হচ্ছে, দূর-দূরান্ত থেকে আগত পণ্ডিতদের সমাগম। এখানকার ভিক্ষুরা দান পাঠাতেন নালন্দা মহাবিহার, বুদ্ধগয়া এবং অন্যান্য তীর্থস্থানে-অর্থ, রত্ন, মূল্যবান উপঢৌকন। দশম ও একাদশ শতাব্দীর সেই দান-অনুদান আজও সাক্ষ্য দেয় এই প্রতিষ্ঠানের ঐশ্বর্য ও প্রভাবের।
পাল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে আরও বহু বিহার-অগ্রপুর, উষ্মপুর, গোটপুর, এতপুর, জগদ্দল-যেন জ্ঞানের এক নক্ষত্রমণ্ডল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে জ্বলছিল সোমপুর।
কিন্তু ইতিহাসের স্রোত কখনো স্থির থাকে না।
নবম শতাব্দীর শেষভাগে আঘাত আসে। গুর্জর রাজা প্রথম ভোজ এবং মহেন্দ্র পাল-এর আক্রমণে পাল সাম্রাজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সময়ের ঝড় সামলে কিছুটা শক্তি ফিরে পান মহীপাল (৯৯৫–১০৪৩ খ্রি.), যিনি সোমপুর মহাবিহারের সংস্কারও করেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর আবার শুরু হয় অস্থিরতা।
একের পর এক আঘাতে কেঁপে ওঠে জনপদ। চেদীরাজ কর্ণ, চোল সম্রাট রাজেন্দ্র চোল, আর কৈবর্ত সামন্ত দিব্বো-বরেন্দ্রভূমিতে আঘাত হানেন। এই অশান্ত সময়েই সম্ভবত ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসে নালন্দা ও পাহাড়পুরে। আগুনের লেলিহান শিখা, লুটপাটের উন্মত্ততা, রক্তাক্ত সংঘর্ষ-সব মিলিয়ে জ্ঞানের কেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যেতে থাকে।
একাদশ শতকে আবার একবার আশা জাগান রামপাল। তিনি কিছুটা স্থিতি ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু সেই শান্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। দ্বাদশ শতকে দক্ষিণ ভারত থেকে আগত সেন রাজারা বাংলার ক্ষমতা দখল করলে পালদের পৃষ্ঠপোষকতা সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যায়। তখন থেকেই সোমপুর মহাবিহার হারাতে শুরু করে তার প্রাণ, তার জৌলুস।
যে প্রাঙ্গণে একসময় জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ত, সেখানে ধীরে ধীরে নেমে আসে নীরবতা।
এই পতনের পেছনে ছিল অনেকগুলো কারণ। বাহ্যিক আক্রমণ যেমন ছিল, তেমনি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও ছিল প্রবল। বিশেষ করে মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি-র অভিযানের ফলে নালন্দা ও অন্যান্য বিহারে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। যদিও সোমপুরে তাঁর সরাসরি আক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নিয়ে বিতর্ক আছে, তবুও সেই সময়ের সহিংসতা গোটা অঞ্চলের বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে গভীরভাবে আঘাত করে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্থানীয় শাসকদের সংঘর্ষ এবং অবহেলা-এসবের মাঝেও দুর্বল হয়ে পড়ে এই বিশাল প্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও এমন কথাও শোনা যায়, কোনো এক স্থানীয় শাসকের আক্রমণে মঠাধ্যক্ষ নিহত হন। যেন সেই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে পড়ে প্রতিষ্ঠানের শেষ ভরসাটুকু।
এভাবেই, সময়ের ধুলোর নিচে চাপা পড়ে যেতে থাকে সোমপুর। হারিয়ে যায় অসংখ্য পুঁথি, শিলালিপি, শিল্পকর্ম-জ্ঞানের এক অমূল্য ভাণ্ডার বিলীন হয়ে যায় অতলে।
তবুও ইতিহাস কখনো পুরোপুরি হারায় না।
উনবিংশ শতাব্দীতে, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে এখানে খননকার্য শুরু করেন। যদিও জমিদারদের বাধায় তা সীমাবদ্ধ ছিল। পরে ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র গবেষণা পরিষদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আবার শুরু হয় খনন। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বহু গবেষকের প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয় সোমপুরের স্থাপত্য-তার সিঁড়ি, প্রাচীরচিত্র, আর সুপরিকল্পিত গঠন।
এরপরও থেমে থাকেনি অনুসন্ধান। ১৯৩০-এর দশক থেকে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময় পর্যন্ত চলে খনন ও গবেষণা। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে নতুন করে সংরক্ষণ ও খনন কার্যক্রম চালায়। জলাবদ্ধতা দূর করা, কাঠামো সংরক্ষণ-এসব প্রচেষ্টায় যেন আবার একটু প্রাণ ফিরে পায় এই প্রাচীন নিদর্শন।
আজ পাহাড়পুরের সেই ধ্বংসাবশেষ নীরবে দাঁড়িয়ে আছে-অতীতের এক অনড় সাক্ষী হয়ে। এখানে কোনো হঠাৎ পতনের গল্প নেই, নেই একদিনে সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার চিহ্ন। বরং এটি সময়ের দীর্ঘ ছায়া-আক্রমণ, অবহেলা আর পরিবর্তনের ধীর অথচ নিশ্চিত ছাপ।


May 14, 2026

ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি

 ঈদুল আজহায় ছুটি ৭ দিন, প্রজ্ঞাপন জারি


মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারি-বেসরকারি অফিস সাত দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী-

জরুরি পরিষেবা যেমন- বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এ সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসসমূহ এই ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে।

ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বেসরকারি খাতের শিল্প প্রতিষ্ঠান/কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

এর আগে গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাত দিন ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

আগামী ২৬ থেকে ৩১ মে ঈদুল আজহার ছুটি নির্ধারিত ছিল। এই ছুটি একদিন (২৫ মে) বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের ছুটির আগের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) অফিস খোলা থাকবে। সেই সঙ্গে রোববার (২৪ মে) ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস থাকবে।


স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ ঘাতক ফোরকানের

 স্ত্রী-তিন মেয়েসহ ৫ খুন: পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ ঘাতক ফোরকানের


গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া ফোরকান মোল্লা (৪০) আত্মহত্যার জন্য পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ধারণা, নদীতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দিন তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান।
গত ৮ মে রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকার ভাড়া বাসায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে যান ফোরকান। তিনি প্রথমে খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে খাওয়ান ওই পাঁচজনকে।
পরে তারা ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন আসামি। পালিয়ে যাওয়ার পর স্বজনদের ফোনকল করে হত্যার কথা জানান ফোরকান।

তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানার মেরী গোপীনাথপুর এলাকার আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। ফোরকান পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার পাঁচজন হলেন তার স্ত্রী শারমিন খানম (৩৫), তিন মেয়ে মিম (১৪), উম্মে হাবিবা ওরফে মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (১৮)।

ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, পাঁচ খুনের ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১ মে ফোরকান মোল্লার মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর সদর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

তদন্তকালে জানা যায়, এক ট্রাকের হেলপার ওইদিন সকাল পৌনে ৭টার দিকে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকতে দেখে নিয়ে নেন। পরে পদ্মা সেতুর সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একই দিন সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে এক ব্যক্তি সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা অবস্থায় সাদা প্রাইভেটকার থেকে পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নামছিলেন। পরে পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের পাশে কিছু রেখে ২-৩ মিনিট পর পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। তদন্তে জানা যায়, পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিটি আসামি ফোরকান মোল্লা।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ধারণা করা হয় ফোরকান মোল্লা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী, তিন কন্যা এবং শ্যালককে হত্যা করেন। পরে নিজে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রায় ১৬ বছর আগে ফোরকানের সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার পাইককান্দি এলাকার মো. সাহাদৎ মোল্যার মেয়ে শারমিন খানমের বিয়ে হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা এলাকায় মনির হোসেনের বাড়িতে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ভাড়ায় থাকছিলেন ফোরকান। ৮ মে রাতে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে গেলে পরদিন খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি। 

এ ঘটনায় শারমিন খানম ও রসুল মিয়ার বাবা মো. সাহাদৎ মোল্যা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফোরকানকে প্রধান আসামি করে ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।




পদ্মা ব্যারেজ কী কাজে লাগবে

 পদ্মা ব্যারেজ কী কাজে লাগবে




দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলোকে প্রাণদান এবং দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের পানির সংকট দূর করতে বিশাল এক মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের বৃহত্তম ‘ব্যারেজ'।
৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।  

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি আগামী সাত বছরের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।  

একনজরে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প:

নির্মাণস্থল: রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা।

ব্যয়: প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

দৈর্ঘ্য: ২.১ কিলোমিটার (থাকছে ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস এবং দু'টি ফিশ পাস রাখা হবে)।

লক্ষ্য: ৫টি প্রধান নদী পুনরুজ্জীবিত করা এবং ২৪ জেলার পানিসংকট নিরসন।

সময়সীমা: ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের সমাপ্তি।

ব্যারেজ কী?

ব্যারেজ হলো পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে নদী বা জলাধারের ওপর আড়াআড়িভাবে নির্মিত বিশেষ একটি অবকাঠামো। ড্যাম বা বাঁধের সঙ্গে এর পার্থক্যে হলো বাঁধের মাধ্যমে সাধারনথ জলাধারের পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে একটি নির্দিষ্ট জায়গাজুড়ে পানি ধরে রাখা হয়।

অন্যদিকে ব্যারেজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করার পরিবর্তে সেটির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এক্ষেত্রে মূল অবকাঠামোতে একাধিক দরজা রাখা হয়, যেখান দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

সাধারণত ব্যারেজ নির্মাণের আগে উজানে এক বা একাধিক কৃত্রিম খাল খনন করা হয়। এরপর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে ওইসব খালে পানি ঢোকানো হয়। সেই পানি পাম্পের মাধ্যমে কৃষি জমিতে সেচ আকারে দেওয়া হয়। আবার অনেক সময় ব্যারেজের মাধ্যমে এক নদীর পানি অন্য নদীতে নিয়ে সেটির প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে সেটিই করার পরিকল্পনা করছেন কর্মকর্তারা।

কেন পদ্মা ব্যারেজ, কী কাজে লাগবে?

সভা শেষে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র খরা ও লবণাক্ততা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ  হবে একটি ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্প। এর মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই, মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, বড়াল ও ইছামতী নদীতে পানি প্রবাহ বাড়ানো হবে।

এক্ষেত্রে ব্যারেজের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ওইসব নদীতে প্রায় ৮০০ কিউসেক পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। এরপর সেই পানি দিয়ে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পিরোজপুর অঞ্চলে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হবে বলে প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেটি সম্ভব হলে এসব অঞ্চলে ধান এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। নদী তীরবর্তী এলাকার জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল, সেদিকের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকার পাবে, এই পদ্মা ব্যারেজ করার মাধ্যমে সর্বোচ্চ বেনিফিটটা আমরা ওই অঞ্চলের মানুষকে দিতে পারবো, সেটা কৃষিখাতে হোক, সুন্দরবনের জন্য হোক, বলেও জানান পানিসম্পদমন্ত্রী।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততার বিস্তার কমবে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে এবং সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হবে। এ ছাড়া গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্প, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প, গোদাগাড়ী পাম্প হাউস এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সরকার আশা করছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে বার্ষিক ধান উৎপাদন ২৪ লাখ টন এবং মাছের উৎপাদন সোয়া দুই লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পেও পানির সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বিদ্যুৎকেন্দ্র ও স্যাটেলাইট শহর

প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ব্যারেজকে কেন্দ্র করে তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নদীর তীরে সাতটি আধুনিক ‘স্যাটেলাইট শহর’ গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সবমিলিয়ে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থ-সামাজিক সুবিধা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সরকারের কর্মকর্তারা।

গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে বিভিন্ন সময় এই ব্যারেজ নির্মাণের সমীক্ষা চললেও বর্তমান সরকার এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী অর্থবছর থেকেই প্রকল্পের প্রথম ধাপের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

May 13, 2026

দোহার বিলাসপুরের অগ্নিকাণ্ডে এতিম হওয়া শিশুদের সার্বিক দ্বায়িত্বে এমপি খন্দকার আবু আশফাক

 দোহার
বিলাসপুরের অগ্নিকাণ্ডে এতিম হওয়া শিশুদের সার্বিক দ্বায়িত্বে এমপি খন্দকার আবু আশফাক

ঢাকার দোহার উপজেলার বিলাসপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাবা-মাকে হারিয়ে বেঁচে যাওয়া শিশুদের দেখতে হাসপাতালে যান ঢাকা-০১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক।
এ সময় তিনি শিশুদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। শিশুদের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে তিনি বলেন, এই শোক কাটিয়ে উঠতে পরিবারগুলোর পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে।

সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিষ্পাপ শিশুরা এক মুহূর্তে মা-বাবাকে হারিয়েছে। তাদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।আমি এদের পড়াশোনা ও বিয়ের সার্বিক দ্বায়িত্ব নিলাম”।

তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুবদলের ঢাকা জেলা সহ-সভাপতি আবুল হাসেম। এছাড়াও স্থানীয় নেতাকর্মী ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিলাসপুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় শিশুদের মা-বাবার মৃত্যু হয় এবং কয়েকজন শিশু আহত অবস্থায় উদ্ধার হন।


মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শোল্লা ইউনিয়নের যুবসমাজের ‘রণহুঙ্কার’: ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী

 মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শোল্লা ইউনিয়নের যুবসমাজের ‘রণহুঙ্কার’: ঐক্যবদ্ধ গ্রামবাসী


ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নে মাদকের নীল দংশন আর সন্ত্রাসের রাজত্বের বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়িয়েছে শান্তিকামী জনতা। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে শোল্লা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের হায়াতকান্দা গ্রামে দেখা গেল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি ও জুয়ার বিরুদ্ধে শত শত যুবকের দৃপ্ত পদচারণায় কেঁপে ওঠে এলাকার রাজপথ।

স্থানীয় যুবসমাজ ও গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয় পুরো গ্রাম। মিছিলকারীদের কণ্ঠে ছিল সমাজ সংস্কারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা। বিশেষ করে “বিচারের নামে অবিচার” রুখে দিতে এবং একটি নিরাপদ ও কলুষমুক্ত সমাজ গড়তে জনসচেতনতামূলক স্লোগান দেন তারা।

মিছিলটি গ্রামের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
“চোর, ডাকাত, চাঁদাবাজ আর মাদকসেবীরা দেশ ও দশের শত্রু। হায়াতকান্দার পবিত্র মাটিতে এদের কোনো স্থান নেই। যারা বিচারের নামে অবিচার করছে এবং জুয়ার আসর বসিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে, তাদের আমরা সামাজিকভাবে বয়কট করার ঘোষণা দিচ্ছি।”
— বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী

সমাবেশে যুবসমাজের প্রতিনিধিরা এলাকাকে নিরাপদ করতে একগুচ্ছ কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তারা জানান: এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে যুবকরা দলবদ্ধভাবে রাত জেগে পাহারা দেবেন


দোহার – নবাবগঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা: এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বদ্ধপরিকর

 দোহার – নবাবগঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা: এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বদ্ধপরিকর


 দোহার – নবাবগঞ্জ নিয়ে উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা: এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বদ্ধপরিকর
 

শনিবার ঢাকার নবাবগঞ্জে উপজেলা ডাকবাংলো এবং জেলা পরিষদ মার্কেট পরিদর্শন করেছেন ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-০১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক।

পরিদর্শন শেষে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার দুই নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এসময় নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম ও দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান ডাকবাংলোর সার্বিক অবস্থা এবং জেলা পরিষদ মার্কেটের ব্যবসায়িক পরিবেশ সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এ সময় ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন: “দোহার ও নবাবগঞ্জকে আধুনিক ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পরিষদ বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।”

পরিদর্শনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলা পরিষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা আশা করছেন, এই পরিদর্শনের ফলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে

গুরুতর অসুস্থ কমান্ডার আবু তালেব শিকদারকে দেখতে এমপি আশফাক

 গুরুতর অসুস্থ কমান্ডার আবু তালেব শিকদারকে দেখতে এমপি আশফাক


মাহমুদুল হাসান সুমন : দোহার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবু তালেব শিকদার গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে দেখতে হাসপাতালে যান ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা-০১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এমপি।

এ সময় তিনি অ্যাডভোকেট আবু তালেব শিকদারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।


ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

 ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


 কোনো শিশু যাতে টিকাদান কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে জন্য তাদের ডেকে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। 

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশেনের ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান গ্রহণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সরকার টিকাদান কার্যক্রমে অত্যন্ত সিরিয়াস।
 তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জেলায় শতভাগের কাছাকাছি টিকা কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। যেসব এলাকায় এখনো টার্গেট পূর্ণ হয়নি, সেখানে মাইকিং করে এবং খুঁজে খুঁজে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, টিকা দেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে। এই সময় পর্যন্ত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে চিকিৎসা, আইসোলেশন ও আইসিইউ ব্যবস্থাও চালু রয়েছে বলে তিনি জানান।

হাম পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে। কোনো শিশু যাতে টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

টিকা সংকটের কারণ তদন্ত হবে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত করব না-এ কথা আমি বলিনি। আমরা এখন সংকট মোকাবিলা করছি। পরে প্রয়োজন হলে বিষয়টি দেখা হবে। 

তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে এ বিষয়েই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এ সময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

৭২ ঘণ্টা অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সিলেটে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

 ৭২ ঘণ্টা অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সিলেটে জলাবদ্ধতার শঙ্কা


 ৭২ ঘণ্টা অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সিলেটে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে বিশেষ করে সিলেট বিভাগে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। 
এর প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তা ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে তা অতি ভারী বৃষ্টিপাত হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের বৃষ্টিতে সিলেট বিভাগের নিচু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন দিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক

 ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন দিল চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক

বাংলাদেশ সরকারের টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তার লক্ষ্য এবং এর ইপিআই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার সহযোগী হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন (Sinovac Foundation) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ WHO Pre-Qualified পোলিও ভ্যাকসিন (Sabin Strain) অনুদান হিসেবে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পোলিও ভ্যাকসিনের ডোজ হস্তান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভ্যাকসিনের নাম : Poliomyelitis Vaccine (Vero Cell, Inactivated Sabin strains) (sIPV) ৷ ভ্যাকসিনের সংখ্যা বা সর্বমোট ডোজ : ৩,৮০,০০০ (৭৬,০০০ ভায়াল) ৷

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন।
এসময় চীনা দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


 

churain nawabgonj dhaka bangladesh news

 churain nawabgonj dhaka bangladesh news 

churain nawabgonj dhaka bangladesh news