May 17, 2026

সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব

 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব


 সত্যিই কি চেঙ্গিস খান 'খোদার গজব' ছিল? নাকি এটা সুচতুর একটা সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার ছিল?
আজ থেকে ৭০০ বছর আগে অশিক্ষিত যাযাবর চেঙ্গিস বাহিনী যেভাবে ভয় এবং ত্রাসের মাধ্যমে মুসলিমদের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে পরাজিত করেছিল, আজকের দুনিয়াও আমরা তার পুনরাবৃত্তি দেখতে পাই। ছোট ছোট জাতি, বিশাল বিশাল জনগোষ্ঠীকে ত্রাসের মাধ্যমে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে।
ইতিহাস কেবলই গজব আর অলৌকিকতার হিসাব নয়, এর পেছনে থাকে সুনির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। মঙ্গোলদের প্রবল উত্থানের পেছনে যুগে যুগে যাযাবরদের হাতে শহরবাসীর ধরাশায়ী হবার খালদুনীয় তত্ত্বেরই একটি রূপায়ন আমরা দেখি মূলত।
(গত পর্বের পর...)
​ইউরেশিয়ার এক বিশাল চারণভূমি থেকে উঠে আসা সর্বশেষ আক্রমণকারী যাযাবর জাতি ছিল মঙ্গোলরা। হাজার বছর ধরে এই অঞ্চলটি পর্যায়ক্রমে এমন সব যাযাবর বিজেতাদের জন্ম দিয়েছে, যারা চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের স্থায়ী সভ্যতাগুলোর ওপর বারবার হামলে পড়েছে। জিয়ংনু, হুন এবং গোকতুর্কদের মতো পূর্বসূরিদের মতোই মঙ্গোলরাও একই রকম সম্প্রসারণবাদী কৌশল এবং সামরিক পদ্ধতি ব্যবহার করত।
​কিন্তু মঙ্গোলরা ছিল একেবারেই আলাদা। তাদের অবিশ্বাস্য গতি, বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখলের ক্ষমতা এবং নিখাঁদ সামরিক দক্ষতার বলে তারা হয়ে উঠেছিল এই যাযাবর অঞ্চল থেকে উঠে আসা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর পরাশক্তি।
​১২১৮ সাল। মিসরের দামিয়েতা বন্দর অবরোধ করে পঞ্চম ক্রুসেড। যদিও মাত্র কয়েক বছরের মাথায় এই ক্রুসেড চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ঠিক একই বছরে, মুসলিম বিশ্বের পূর্ব সীমান্তে এসে দাঁড়ান চেঙ্গিস খান। খাওয়ারিজমীয় সাম্রাজ্যের শাহ দ্বিতীয় মুহাম্মদের কাছে তিনি এক চরমপত্র পাঠান— হয় বশ্যতা স্বীকার করো, নয়তো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত হও।
কোন কারণে ওতরার শহরের খাওয়ারিজমীয় গভর্নর ইনালচুক একটি পুরো মঙ্গোল বাণিজ্য কাফেলাকে হত্যা করেন। এর মধ্যে চেঙ্গিস খানের একজন দূতও ছিলেন। দাবি করা সত্ত্বেও এই ঘটনায় ইনালচুকের বিচার না পেয়ে এই আল্টিমেটাম দেন চেঙ্গিস। শাহ এই চরমপত্র প্রত্যাখ্যান করেন। 
শেষ পর্যন্ত একে এক মোক্ষম অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেন চেঙ্গিস খান। কয়েক বছরের মধ্যেই বুখারা, সমরকন্দ, নিশাপুর এবং মার্ভ শহরের ওপর দিয়ে মঙ্গোল টর্নেডো বয়ে যায়। 
প্রাণ বাঁচাতে শাহ কাস্পিয়ান সাগরের দিকে পালিয়ে যান এবং নির্বাসিত অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়। আর গভর্নর ইনালচুককে বন্দি করে তার চোখে ও কানে গলিত রুপা ঢেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে মঙ্গোলরা।
\\=\\
​চেঙ্গিস খানের মৃত্যুর কয়েক বছর পর, ১২২৯ সালে তার ছেলে ওগেদাইয়ের নেতৃত্বে মঙ্গোলরা ফের পশ্চিমমুখী আগ্রাসণ শুরু করে। ১২৪০-এর দশকের মধ্যেই তারা পারস্য এবং এর আশপাশের বড় একটি অংশ দখল করে নেয়। 
এরপর আনাতোলিয়ার সেলজুকদের পরাজিত করে তাদের একটি করদ রাজ্যে পরিণত করে। পাশাপাশি সিরিয়া এবং আধুনিক ইরাকের কিছু অংশে শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান।
​তবে মুসলিম বিশ্বের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে ১২৫৮ সালে। চেঙ্গিস খানের নাতি হালাকু খান বাগদাদ ধ্বংস করেন। শহরের জনসংখ্যাকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়। 
পরাজিত খলিফা আল-মুসতাসিমকে মঙ্গোলদের ঐতিহ্য অনুযায়ী একটি গালিচায় মুড়িয়ে ঘোড়ার পায়ের নিচে পিষ্ট করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আব্বাসীয়দের ৫০০ বছরের শাসনের অবসান হয়।
মাত্র ৪০ বছরে ​বিপুল এই ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা পুরো মুসলিম বিশ্বে এক তীব্র আতঙ্কের ঢেউ তোলে। অভাবনীয় নিষ্ঠুরতার গল্পগুলো ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। সে সময়ের ঐতিহাসিক বিবরণগুলোতে লাখো মানুষের মৃত্যু এবং মঙ্গোলদের ভয়াবহ ও নির্মম সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়।
​আজকের পাঠকদের কাছে এসব বিবরণ হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হতে পারে। তবে সমসাময়িক মুসলিম ও খ্রিস্টানদের কাছে মনে হয়েছিল, মঙ্গোলরা যেন নরকের সবচেয়ে গভীর অন্ধকার গহ্বর থেকে উঠে এসেছে। কোনো গল্পকেই তখন আর অবিশ্বাস্য মনে হতো না। বিস্তীর্ণ জনপদ ধ্বংস করে এগিয়ে চলার পথে মঙ্গোলদের দেখা হতো সক্ষাত খোদার গযব হিসেবে।
​যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এই ধারণাটি আজও চেঙ্গিস খানের সেই বহুল প্রচলিত উক্তিটির মাধ্যমে টিকে আছে:
"আমি খোদার গজব... তোমরা যদি বড় বড় পাপ না করতে, তবে তিনি আমার মতো কোনো শাস্তিকে তোমাদের ওপর পাঠাতেন না।”
\\=\\
ধ্বংসের এক অনিবার্য আতঙ্ক চারপাশ থেকে চেপে বসেছিল। মানুষের মনে ইমাম মাহদি ও ঈসা মসীহের আগমনের ধারণাগুলো ক্রমশ জোরদার হতে থাকে। ধূমকেতুর দেখা মেলা, ভূমিকম্প কিংবা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতকে মানুষ দ্রুতই কেয়ামতের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে ধরে নিতে শুরু করে।
​এরই মধ্যে, বিলাদে শামে পুরোদমে আগ্রাসন শুরু করে মঙ্গোলরা। তাদের লক্ষ্য ছিল মিসরে প্রবেশ করা এবং সেখান থেকে ইসলামের একেবারে কেন্দ্রভূমি আরব উপদ্বীপে আঘাত হানা। 
কিছু সময়ের জন্য মনে হচ্ছিল, গোটা বিশ্বকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া এবং কেয়ামতের সেই ভবিষ্যদ্বাণী পূরণ করা থেকে মঙ্গোলদের বুঝি আর কেউই রুখতে পারবে না। অথচ, যখন ইসলামি সভ্যতা খাদের একেবারে কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তখনই হোঁচট খায় মঙ্গোল আগ্রাসন।
​বাগদাদ পতনের পর দামেশকে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হালাকু খান। এরপর শুরু হয় মিসর দখলের প্রস্তুতি। উত্তর আফ্রিকার বাইরে তখন একমাত্র স্বাধীন মুসলিম ভূখণ্ড হিসেবে টিকে ছিল মিসরের মামলুক সালতানাত। হালাকু খান মামলুক রাজধানী কায়রোতে দূত পাঠিয়ে তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানান।
​জবাবে মামলুক সুলতান সাইফউদ্দীন কুতুজ সেই দূতদের শিরশ্ছেদ করেন। তাদের কাটা মাথা ঝুলিয়ে রাখা হয় কায়রোর প্রবেশদ্বারে। হালাকু খানের সাথে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে কুতুজ তার মামলুক বাহিনীকে সংঘবদ্ধ করেন। ঠিক এই মুহূর্তটিতেই ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায়।
​১২৫৯ সালে তৎকালীন মঙ্গোল শাসক মংকে খানের মৃত্যুতে হালাকু খান তার বিশাল বাহিনীর বড় একটি অংশ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হন। মঙ্গোলিয়ায় ফিরে গিয়ে নতুন শাসক নির্বাচনের জন্য মঙ্গোলদের সর্বোচ্চ পরিষদ বা 'কুরুলতাই'-এ যোগ দেওয়া তার জন্য তখন জরুরি ছিল। যাওয়ার আগে তিনি তার অন্যতম সেনাপতি কিতবুকাকে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে যান।
​ঠিক এক বছর পর, ১২৬০ সালে, 'আইন জালুত'-এর প্রান্তরে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এখানেই মঙ্গোলরা তাদের ইতিহাসের প্রথম পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে। মামলুক বাহিনীর হাতে কিতবুকা নিহত হন এবং তার বাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
​মঙ্গোলদের এই পরাজয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল হালাকু খানের পশ্চিম এশিয়া ত্যাগ। তাছাড়া মামলুকরা নিজেরাও ছিল যাযাবর বংশোদ্ভূত। ফলে স্তেপ অঞ্চলের অশ্বারোহী যুদ্ধকৌশল তাদের কাছে খুব একটা অপরিচিত ছিল না। মঙ্গোলদের সামরিক কৌশল তাই তাদের ভড়কে দিতে পারেনি।
\\=\\
​হালাকু খান আইন জালুতের এই পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর কুদরতে তাকে সম্পূর্ণ নতুন এক হুমকির মুখোমুখি হতে হয়। 
তার আপন চাচাতো ভাই এবং 'গোল্ডেন হোর্ড' সাম্রাজ্যের শাসক বারকে খান ততদিনে ইসলাম কবুল করেছেন। বাগদাদ ধ্বংস এবং খলিফাকে হত্যার ঘটনায় বারকে খান প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ছিলেন। তিনি মামলুকদের সাথে মিত্রতা গড়ে তোলেন এবং হালাকু খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই গোল্ডেন হোর্ডের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলাকালেই ১২৬৫ সালে হালাকু খানের মৃত্যু হয়।
​১২৬০ সালের পর মামলুক শাসিত মিসরে মঙ্গোলরা বিক্ষিপ্তভাবে আরও বেশ কয়েকবার আক্রমণের চেষ্টা করে, কিন্তু কখনোই আর সফল হতে পারেনি। ততদিনে হাওয়া বদলে গেছে। আইন জালুতের প্রান্তরে মামলুকদের বিজয় এবং বারকে খানের ইসলাম গ্রহণ এমন এক বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত খোদ মঙ্গোল সাম্রাজ্যকেই পাল্টে দেয়।
....
ক্রিটিকালি চিন্তা করে দেখেন, কেন, আর কীভাবে  মামলুকরাই মোঙ্গলদের ঠেকাতে পারলো, অন্যরা নয়? ৪২ বছরের মোঙ্গল ত্রাসের ইতিহাসে একদম শুরু, আর শেষের মধ্যে একটা কাকতালীয় মিল আছে। সেখানেই পাওয়া যাবে উত্তর।
(চলবে...)
তথ্যসূত্র:
​আতা-মালিক জুভায়নি (Genghis Khan: The History of the World Conqueror - মঙ্গোল ধ্বংসযজ্ঞ ও 'খোদার গজব' উক্তির ঐতিহাসিক বিবরণ)
​ডেভিড মরগান (The Mongols)
​পিটার জ্যাকসন (The Mongols and the Islamic World)
​রিউভেন আমিতাই-প্রিস (Mongols and Mamluks: The Mamluk-Ilkhanid War)
​ম্যারি ফক রেস্তাইন (The Mongols and the Mamluks)

ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ

 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ


 🐐 ছাগল পালনে নিশ্চিত লাভ: ২০২৬ সালের আধুনিক শেড বা ঘর নির্মাণের কৌশল 🐐
বর্তমান সময়ে কৃষিখাতে বিনিয়োগের অন্যতম লাভজনক ক্ষেত্র হলো ছাগল পালন। ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী উদ্যোক্তাদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ হতে পারে। তবে চিরাচরিত পদ্ধতিতে ছাগল পালন না করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ঘর তৈরি করলে মৃত্যুহার যেমন কমে, তেমনি বৃদ্ধি পায় মুনাফার হার।
🏗️ আধুনিক মাচা পদ্ধতি বা প্ল্যাটফর্ম শেড:
২০২৬ সালের সফল খামারিরা এখন মাচা পদ্ধতিতে ঘর তৈরি করছেন। এই পদ্ধতিতে ছাগল মাটির সংস্পর্শে থাকে না, ফলে রোগবালাই অনেক কম হয়।
১. মাচার উচ্চতা ও মেঝে:
মাটি থেকে মাচার উচ্চতা অন্তত ৩ থেকে ৪ ফুট হওয়া উচিত। মেঝে হিসেবে টেকসই কাঠ বা প্লাস্টিকের আধুনিক মাচা ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। মাচার ফাঁক এমনভাবে রাখতে হবে যাতে মল-মূত্র সহজেই নিচে পড়ে যায়।
২. দেয়াল ও ভেন্টিলেশন:
ঘরের দেয়াল সম্পূর্ণ বদ্ধ না করে অন্তত উপরের অর্ধেক অংশ নেট বা জালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এতে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত হয়, যা ছাগলের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য চর্মরোগ রোধ করে।
৩. সঠিক জায়গা বরাদ্দ:
প্রতিটি বড় ছাগলের জন্য কমপক্ষে ১০-১২ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন হয়। গাদাগাদি করে ছাগল রাখলে তাদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪. তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও জৈব নিরাপত্তা:
শীতকালে ঘর গরম রাখতে চটের বস্তা বা মোটা পর্দা এবং গ্রীষ্মকালে বাতাসের প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। খামারের প্রবেশপথে অবশ্যই জীবাণুনাশক ফুটবাথ রাখতে হবে যাতে বাইরের কোনো ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে।
💡 কেন এই বয়সে ছাগল পালনে বিনিয়োগ করবেন?
৩০-৪০ বছর বয়স হলো কাজ করার ও সঠিক বিনিয়োগের শ্রেষ্ঠ সময়। এই আধুনিক ঘর পদ্ধতিতে আপনি যদি ২০-৩০টি উন্নত জাতের (যেমন- ব্লাক বেঙ্গল বা যমুনা পাড়ি) ছাগল দিয়ে শুরু করেন, তবে ১-২ বছরের মধ্যেই এটি একটি বড় আয়ের উৎসে পরিণত হবে। নিজের হাতে গড়া এই খামার আপনাকে কেবল আর্থিকভাবে স্বাবলম্বীই করবে না, বরং আপনি হয়ে উঠবেন স্থানীয় কৃষি বিপ্লবের কারিগর।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
📢 প্রিয় দর্শক, আপনি কি আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে ছাগলের ঘর করার কথা ভাবছেন? নাকি আপনার বর্তমান শেড নিয়ে কোনো সমস্যায় আছেন?
✅ লাইক দিয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করুন।
✅ কমেন্টে জানান আপনার এলাকার আধুনিক খামারগুলোর বর্তমান অবস্থা।
✅ শেয়ার করে আপনার বেকার বন্ধুদের স্বপ্ন জয়ের নতুন পথ দেখান।

বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের

 বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের 


 বাংলার শেষ নবাব নাজিম ফেরাদুন জা এর আমলে বাংলা বেশ কিছু বড় বিদ্রোহের কবলে পড়েছিল, বিশেষ করে সাঁওতাল ও সিপাহীদের বিদ্রোহ। তবে এই দুটি বিদ্রোহই ইংরেজ সরকার বাহাদুর অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করেছিল, সেই বিদ্রোহ দমনে নবাবও নিজের সর্বস্ব দিয়ে ইংরেজদের সাহায্য করেছিলেন।এমনকি বিদ্রোহ দমনের পর ইংরেজ সৈন্যরা যখন নিজের কর্মস্থলে ফিরছিল তখনও ইংরেজ সরকারের অনুরোধে নবাব নিজের হাতী ঘোড়া দিয়ে সাহায্য করেছিলেন।
নবাব দরবারের এজেন্ট কলিন ম্যাকেঞ্জির পত্নী হেলেন ডগলাস ম্যাকেঞ্জির স্মৃতিচারণায় সেই সময়ের একটি ঘটনা উঠে এসেছে। তিনি লিখেছেন,
“আমাদের সৈন্যদের মধ্যে শৃঙ্খলার শিথিলতার প্রমাণও প্রায়ই দেখা যেত। ৯৯তম রেজিমেন্ট যখন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হয়, তখন এজেন্ট তাদের যাত্রায় সহায়তার জন্য নবাবের কয়েকটি হাতি ধার দিয়েছিলেন।
তবে দুমাস পরে পনেরো বছর বয়স্ক এক হাতির মাহুত তাঁর কাছে আসে কাঁধে গুরুতর বেয়নেটের আঘাত নিয়ে। কারণ, ইংরেজি ভাষায় দেওয়া কোনও আদেশ সে বুঝতে পারেনি, আর সেই জন্য কোনও এক সৈনিক তাকে আঘাত করেছিল!
যা ছিল নৃশংসতার এক লজ্জাজনক উদাহরণ।
রেজিমেন্টের সার্জন ক্ষতটি সেলাই করেছিলেন, কিন্তু যথাযথ পরিচর্যার অভাবে তা ওই মুহূর্তে ভীষণ খারাপ অবস্থায় ছিল। যদিও পরে সঠিক চিকিৎসা পেয়ে ছেলেটি অবশ্য দ্রুত সেরে ওঠে”।

মহানগর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রাজপথের পরীক্ষিতরা

 মহানগর যুবদলের নেতৃত্বের আলোচনায় রাজপথের পরীক্ষিতরা


জাতীয়তাবাদী যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের অভ্যন্তরে এখন চলছে ব্যাপক আলোচনা, হিসাব-নিকাশ ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তাদের প্রত্যাশা—পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে নতুন নেতৃত্ব।

বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

 দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকা সাবেক ছাত্রনেতা, রাজপথের লড়াকু সংগঠক এবং যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নাম উঠে আসছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে ঘিরে।
দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, তিনি শুধু মহানগর দক্ষিণ নয়, কেন্দ্রীয় যুবদলেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। অনেকেই মনে করছেন, তিনি যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও যেতে পারেন।

রবিউল ইসলাম নয়ন বাংলানিউজকে বলেন, আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। দলের প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমার অভিভাবক। তিনি আমাকে দলের একজন সাধারণ সদস্য বানালেও আমি দলের হয়ে কাজ করব।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন এবং দীর্ঘ ১৭ বছর যারা ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের ব্যানারে থেকে রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, তারেক রহমানের নির্দেশ পালন করেছেন, তাদের মূল্যায়ন করে কমিটি গঠন করলে ভালো হয়।

সভাপতি পদে আরও আলোচনায় রয়েছেন দক্ষিণ যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ গাফফার, যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না এবং বর্তমান আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলও সভাপতি পদে আলোচিত নাম। দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের একটি বড় অংশ।

ফয়সাল আহমেদ সজল বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও যুবদলের রাজনীতি করেছি। ফ্যাসিস্ট আমলের ১৭টি বছর এবং জুলাই আন্দোলনসহ দীর্ঘদিন দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। দল যদি আমার ওপর আস্থা রাখে, তাহলে দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায়
সাধারণ সম্পাদক পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সাবা করিম লাকি, ফয়সাল হেদায়েত সৈকত পণ্ডিত, রাফিজুল হাই রাফিজ, মো. জিন্নাহ, আসাদুজ্জামান আসলাম, আসিফুর রহমান বিপ্লব এবং পল্টন থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিল মৃধা।

সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাদের অনেককেই সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জিন্নাহ বাংলানিউজকে বলেন, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, পাশাপাশি তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবেন—এমন নেতৃত্বই আসা উচিত বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করা এবং তাদের একটি অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে দলগতভাবে কাজ করানো। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসররা যুবদলে অনুপ্রবেশ করছে। এই অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পল্টন থানার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিল মৃধা বলেন, আগামী যুবদলের কমিটিতে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেতৃত্বই মূল্যায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করেছিলেন, যে কর্মী শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকবে, সে অবশ্যই মূল্যায়িত হবে।

খলিল মৃধা আরও বলেন, আমরা শুধু মিছিলের প্রথম সারিতে থেকেই নয়, ঢাকা শহরের দৃশ্যমান আন্দোলন-সংগ্রামেও ভূমিকা রেখেছি। তাই আগামী মহানগর ও কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে আমরা মূল্যায়নের প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে আমরা চাই, প্রতিটি ত্যাগী পরিবার ও নেতাকর্মীর যথাযথ মূল্যায়ন হোক। সরকারের প্রধান ও আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ। দলের জন্য আমরা জীবন বিলিয়ে দিতেও প্রস্তুত।

যাদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ফলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ তাদের মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না বলেন, যারা দীর্ঘদিন জেল-জুলুম সহ্য করে রাজপথে থেকেছেন, তাদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দিলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

উত্তর যুবদলের নেতৃত্বে যাদের নাম আলোচনায়
সভাপতি পদে বর্তমান সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক তসলিম আহসান মাসুমের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান রাজ, বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু এবং মনিরুল ইসলাম স্বপন।

সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের রামপুরা থানার আহ্বায়ক কামাল আহমেদ দুলু। ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান রুয়েল, যিনি দীর্ঘদিন গুম থাকার পর ফিরে এসেছেন, তার নামও আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক হিমেল, আইয়ুব আলী এবং যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস আহমেদের নামও শোনা যাচ্ছে।

কামাল আহমেদ দুলু বাংলানিউজকে বলেন, দুইটি মামলায় সাজা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে ৭৭টি মামলা খেয়েছি। তবুও স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লালচক্ষুর রাঙানি ভয় পাইনি। দলের জন্য কাজ করে গেছি। দলের নেতা তারেক রহমানের প্রতিটি নির্দেশ মেনে চলেছি। দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখান থেকেই কাজ করে যাব।

৩৩ মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি
২০২৩ সালের ৯ আগস্ট ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে খন্দকার এনামুল হক এনামকে আহ্বায়ক এবং রবিউল ইসলাম নয়নকে সদস্যসচিব করা হয়।

পাশাপাশি এম এ গাফফার, ইকবাল হোসেন ও মুকিত হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছিল।

তবে প্রায় ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হয়নি। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হলেও সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন। কেন্দ্রীয় যুবদল এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না বলেন, শুধু ঢাকা মহানগর নয়, দেশের সব জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়েই আমরা ভাবছি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। পরিবর্তিত বাস্তবতায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, উত্তর ও দক্ষিণ দুই ইউনিটেই অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো গেলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে।

তৃণমূলের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমানের মতে, যুবদলের এই পুনর্গঠন রাজধানীর রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। বিশেষ করে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটি গঠন করা গেলে সংগঠন আরও চাঙ্গা হবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রও প্রসারিত হবে।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, এবার কোনো ধরনের ‘পকেট কমিটি’ নয়; বরং আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, কর্মীবান্ধব, সাহসী ও বিতর্কমুক্ত নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে।

তাদের মতে, আগামী দিনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুবদলের নেতৃত্বে এমন নেতাদের প্রয়োজন, যারা শুধু পদধারী নন, বরং কঠিন সময়ে সংগঠনের পতাকা ধরে রেখেছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই প্রায় শেষ পর্যায়ে। খসড়া তালিকাও ইতোমধ্যে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সবুজ সংকেত পেলেই যেকোনো সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হতে পারে।